বাংলা ছোট গল্প
আমার গল্পে তুমি।বাংলা গল্প।অনুগল্প।
#আমার_গল্পে_তুমি
#ফারিহা_আক্তার
ভরা বিয়েবাড়িতে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত।মেঘা হাতে পানির গ্লাস নিয়ে তনুর কাছে যাচ্ছে ।তনু বিয়ের কনে।মেঘার খালাতো বোন তনু।দুজনে সমবয়সী প্রায়।তনু ও মেঘা দুজেই অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রি।পিছনে পিরে মেয়ে একটার সাথে কথা বলাই খেয়াল করেনি সামনে একজন ব্যক্তি আসছে।আর দূর্ভাগ্যবশত মেঘা হোটচ খাওয়ায় গ্লাসের অর্ধেক পানি ওই লোকটার গায়ে গিয়ে পড়ে।সামনের মানুষটিকে দেখে মেঘা একদফা ক্রাশ খেয়ে পেলে।সুদর্শন এক পুরুষ কালো রঙের শার্ট ছেলেটি ফর্সা হওয়ায় সুন্দর লাগছে থাকে।পানি পরার কারণে শার্ট এর কিছু অংশ ভিজে গিয়েছে।লোকটি অগ্নি চোখে তাকিয়ে আছ মেঘার দিকে রাগে লাল হয়ে গেছে।আর মেঘা ছেলেটির দিকে ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে।ধ্যান ভাঙ্গে ছেলেটির গর্জন শুনে
‘হেই ইডিয়ট গার্ল!চোখে কি কম দেখেন,ঠিকভাবে চলতে পারেন না।’
মেঘা এই কথাগুলো শুনে রেগে যায়। কথবড় সাহস থাকে এগুলো বলো।সে ক্রাশকে ধামাচাপা দেয়,কারণ তার শায়েস্তা করতে হবে মেঘা চৌধুরী কে এইগুলো বলা।
‘এই এই কি বললেন আপনি?আপনার এতো বড় সাহস আর আপনি কি চোখে কম দেখেন হ্যা।ও আমি তো ভুলেই গেছি আপনাদের মতো ছেলেরা সুন্দর মেয়ে দেখলেই তো চোখগুলো ঠিক থাকেনা।'
এক্সট্রা একটা ভাব নিয়ে ভেংচি দিয়ে কথগুলো বলে উঠে মেঘা।
‘কিহ? হাও ডেয়ার ইউ। আজ পর্যন্ত কেউ চোখ তুলে কথা বলেনি আমার সাথে আর তুমি এতোটুকু মেয়ে হয়ে আমাকে এগুলো বলো।’ তেড়ে এসে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে।
আর মেঘা গ্লাসে যা পানি ছিলো ফাহাদের দিকে ছুড়ে মারে আর দৌড়ে পালিয়ে যায়। ফাহাদ হতভম্ব হয়ে যায় কি হলো এটা। আর দেখে মেয়েটা উদাও।ফাহাদ রেগে চলে যায়।আর এইপাশে লোকজন না থাকায় কেউ দেখেনি উদের কান্ড।
আর এইদিকে মেঘা তনুর কাছে এসে হাফাতে থাকে।
‘কিরে মেঘা কি হয়েছে তোর? '
‘আরে আর বলিস না এখন একটা হিটলারের সাথে দেখা হয়।ভাবলাম সুন্দর একটা ছেলে ভালো হবে।কিন্তু এ দেখি পুরো নিম পাতার ফেক্টরি।জীবনে মনে হয় মধু খায়নি।’এরপর মেঘা সব ঘটনা খুলে বলে। তনু তো হাসতে হাসতে পুরো শেষ।
‘এই তনু আমার ওয়াচ টা কয়?তোকে না দিয়েছিলাম। ’
এই কথাটি বলে রুমে ডোকে।আর মেঘা তো ফাহাদ কে দেখেই তনুর পিছনে লুকিয়ে পড়ে।কিন্তু ঠিকই ফাহাদের চোখে পড়ে যায়।
‘এই মেয়ে বের হও।'চোখমুখ শক্ত করে ফাহাদ বলে.....
‘কিন্তু ফাহাদ ভাইয়া মেঘা কি করেছে’
‘তোর না জানলে ও চলবে।’
তখনি কয়েকটা মেয়ে এসে তনুকে সাজাতে নিয়ে যায়।কারণ ঘন্টাখানেক পরই বর এসে পরবে।আর বিয়েটা হচ্ছে তনুদের বাসায় ওদের বাড়িটা অনেক বড় আর সামনেও অনেক জায়গা থাকার কারণেই এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘তো মিস মেঘা এখন কয় যাবেন আপনি।’সামনে আসতে আসতে বলে ফাহাদ।আর মেঘা পিছনে যেতে যেতে দেয়ালে পিঠ টেকে যায়।মাত্র দুজনের মধ্যে সামন্য জায়গা রয়েছে।
‘প্লিজ এ..একটু পে..পেছনে যান।’চোখমুখ কিচে বন্ধ করে পেলে মেঘা আর বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে।আজ প্রথম কোনো ছেলের সাথে এতো কাছাকাছি।
ফাহাদ এইবার মেঘাকে ভালো করে খেয়াল করে।ফর্সা শরীর, মুখের বাম পাশে ছোট্ট তিল।গাড় নীল রঙের থ্রী-পিচ।অপূর্ব লাগছে থাকে।ভয়ে জড়ো হয়ে থাকা ব্যক্তিটিকে প্রচন্ড ভালো লাগছে।মেঘাকে দেখেই তা রাগ নিমিষে গলে গেলো।মুচকি হাসি দিয়ে কিছু না বলেই বেরিয়ে গেলো ফাহাদ।যা মেঘার আড়ালে।ফাহাদ যেতেই বড় বড় শ্বাস নেই মেঘা কেনো যানি লজ্জা লাগছে ভীষন তার।তখনি রেডি হওয়ার জন্য ডাক পড়ে।আর ফাহাদ হচ্ছে তনুর চাচাতো ভাই। বিদেশে থাকার কারণে এইখানে অনেক বার আসা হলেও মেঘা তাকে দেখেনি।
এইদিকে তনু কেঁদে একাকার।কোনোভাবে শান্ত করেছে সবাই।আর মেঘা রেডি হয়ে আশে গাড় খায়েরি রঙের লেহেঙ্গা। মেচিং জোয়েলারি,চুলগুলো খোঁপা করে রখা।তখনি মেঘার বাবা বলে
‘বাহ আমার মেয়েটাকে তো রাজকন্যার মতো লাগছে।’
‘থ্যাংক ইউ আব্বু।’জরিয়ে ধরে মেঘা বলে উঠে।
সবাই মেঘার প্রসংসা করে।বর আসার পর মেঘা তনু কে নিচে নিয়ে যায়।আর এইদিকে মেঘাকে দেখে ফাহাদ হা করে তাকিয়ে থাকে।
আর ফাহাদ কে দেখে তো মেঘা আবার একদফা ক্রাশ খেয়ে পেলে।ফাহাদের সাথে চোখাচোখি হতেই মেঘা চোখ নামিয়ে নেই।কিছুক্ষন আগের কথা মনে পরতেই লজ্জায় লাল হয়ে যায়।আর ফাহাদ তা বুঝতে পেরেই মুচকি হাসি দেয়।
এইভাবে বিয়েটা সমাপ্তি হয়।যার যার বাসায় ফিরে আাসে।কিন্তু দুজনের চোখে ঘুম নেয়।তারা শুধু ভাবছে আরো কিছুক্ষণ সময় যদি একসাথে থাকতে পারতো।
ঠিক দুইদিন পর,মেঘা বসে আছে।আর ফাহাদের সাথে কাটানো সময়ের কথা ভাবছে।তখনি মেঘার বাবা দরজা নক করে
‘মেঘা আসবো?’
‘আরে আব্বু এসোনা।পারমিশন নেওয়ার কি আছে।’
‘হুম।মা দেখ তোকে কিছু কথা বলি যদি কিছু মনে না করিস?’
‘হুম আব্বু বলো।’
‘আমার কথা রাখবি তো তুই।দেখ তোর কাছে এই একটাই চাওয়া আমার।’
‘আরে আব্বু এইটা কেনো বলছো।জীবনে যা চেয়েছি তাই দিয়েছো আমি কি তোমার একটা আবদার পূরণ করতে পারবোনা বলো।’
‘দেখ জীবনে সবার বিয়ে করতে হয়।ঠিক তেমন আমার রাজকন্যা টাকেও তো বিয়ে দিতে হবে বল?’
এই কথাটা শুনা মাত্রই মেঘার বুক কেঁপে উঠে। সে তো একজন কে ভালোবাসে তাইনা।তাহলে কেমনে পারবে অন্য কাউকে মেনে নিতে।
‘দেখ মা আমি কি তোর কখনো খারাপ চাইবো বল?অনেক ভালো ছেলেটা।আমি যানি আমার মেয়ে টাকে রাণীর মতো করে রাখবে।না করিস না মা।’
এই বলে তিনি ছলে যান।
মেঘা ভাবতে থাকে কি করবে।সে তো তার গল্পে থাকতে চেয়েছিলো।তা আর হলো কয়।আচ্ছা ফাহাদ ও কি আমাকে ভলোবাসে।হয়তো বাসেনা যদি বাসতে একটু হলেও খোঁজ নিতো।মেঘা তার বাবাকে কষ্ট দিতে চয়না। সে নিয়তি কে মেনে নিলো। রাজি হলো.......
আজ মেঘাকে দেখতে আসবে।পাথরের নেয় বসে আছে কোনো কথা বলছেনা।মা খুব শুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে।একটি জলপাই রঙের শাড়ি। চোখে কাজল এতোটাই মুখে অন্য কোনো সাজ নেয়। পত্র আসলে সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।মেঘা একটি বার ও চোখ তুলে তাকাই না।
‘মেঘা মা এইদিকে আয়।’মেঘা কন্ঠ টা শুনতে হতবাক হয়ে যায় কারন কন্ঠ টা ফাহাদের মায়ের।মেঘা শুধু ভাবছে সে যা ভাবছে তা যেনো সত্যি হয়।সামনে তাকিয়ে দেখে ফাহাদ,ফাহাদের আম্মু আর খালামনি।ফাহাদ মুচকি মুচকি হাসছে।তা দেখে সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেলে।সব কিছু ফিক্সড হয়।আর ফাহাদ কে আর মেঘা কে একলা পাঠানো হয় কথা বলার জন্য।
ছাদের কর্নারে বসে আছে ফাহাদ।একমনে তাকিয়ে আছে মেঘার দিকে।মেঘা জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে আছে।আর অস্বস্তি হচ্ছে ভীষণ তখনয় হঠাৎ ফাহাদ সামনে চলে আসে আর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে আর হাতে একগুচ্ছ কাঠগোলাপ
‘এই যে মিস! জানো প্রেমে পড়ে গেছি তোমার।আমি যে এমন একটা দুষ্ট মেয়ের প্রেম পড়বো ভাবতেই পারিনি।প্রথম যখন দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিলো জানো তখন তোমার প্রতি কৌতূহল টা বেশি বেড়ে গেলো।কারণ কখনো কেউ চোখ তুলে কথা বলতে পারেনি।আর তুৃমি তো ডাইরেক্ট ঝগড়া।ভাবিনি ওইদিন এতো কাছাকাছি যাবো। তোমার ভয়ার্ত চেহেরা,জড়োসড়ো হয়ে কথা বলা,লজ্জায় লাল হওয়া সব বলতে সব গুলোর প্রেমের পড়ে গিয়েছি।যখন বিদায় নিচ্ছেলে কোথায় যেনো এক চাপা কষ্ট অনুভব হচ্ছিলো।এরপর থেকে ভীষণ ভাবে অনুভব করেছি ভালোবেসে পেলেছি তোমায়।আমার গল্পে তুমি মিশে আছো।তোমাকে ছাড়া এক মূহুর্ত থাকা ভীষণ কষ্টদায়ক। আমার গল্পে তোমাকে চায়!হবে কি আমার গল্পে তুমি?’
মেঘা অবাক হয়ে সব শুনছিলো।সে ও তো লোকটা কে ভালোবেসে ফেলেছে ভীষণ। তখন মেঘা মাথা নেড়ে কাঠগোলাপ গুলো নেয়।আজ ভীষণ খুশি সে।
‘এইযে মিস মেঘা হাতটা দাও দেখি।’
মেঘা কিছু না বলেই হাত বাড়িয়ে দেয়।ফাহাদ একটি রিং বের করে পড়িয়ে দেয়।মেঘা তো ভীষণ খুশি।ফাহাদ সোজা হয়ে দাঁড়ায়। মেঘার কাছাকাছি চলে আসলে আলতো করে কোমরে হাত রাখে।এতেই মেঘা কেঁপে উঠে।মেঘার সামনে তাকানোর শক্তি নেয় চোখ বন্ধ করে নেয়।ফাহাদ কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে
‘ভালোবাসি বউ! যানি কিছু বলবানা কিন্তু এইটাও যানি ভালোবাসো আমাকে।’
তখন মেঘা অবাক চোখে সে জানলো কেমনে।
‘এইটাই ভাবছো জানি কেমনে।তনুকে আজ সকালে ফোন করে বলছিলে মনে আছে।আর পাশে আমি ছিলাম।’
তখন তনুর মনে পড়ে। আজকে সকালে তনুকে ফোন করেছিলো
‘হ্যালো তনু’
‘এই আংকেল নাকি তোর জন্য ছেলে ঠিক করেছে।আর ছেলেটাও নাকি ভীষণ সুন্দর। ’
আর মেঘা ফুফিয়ে কেঁদে উঠে।
‘এই মেঘা কি কাঁদছিস কেনো? ’
‘তনু আমি তো একজনকে ভালোবাসি রে।’
‘ফাহাদ ভাইয়াকে না?’
‘হুম।কিন্তু তুই কেমনে জানিস?’
‘আমি তো প্রথম থেকে বুঝেছি।তো তুই এখন কি করবি?’
‘আমি আব্বু কে কখনো কষ্ট দিতে পারবো না।যাইহোক বাদ দে।’
কি মনে পড়ছে মিস মেঘা।মেঘা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে।
‘ত তনু আমাকে বলেনি কেনো।’সামনের চুলগুলো কানে গুঝে দিয়ে বলে
‘আমি নিষেধ করেছি।’
এরপর যা করলো ফাহাদ তার জন্য মুঠেও প্রস্তুত ছিলোনা মেঘা।ফাহাদ আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আলতো করে দুইগালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।মেঘা চোখ বন্ধ করে শার্ট আকড়ে ধরে। এরপর ফাহাদ হুট করে ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়ায়।মেঘা তো স্তব্ধ হয়ে যায়।চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে।
‘আজ এতো টুকু বাকিগুলো না হয় বিয়ের পরই হবে।’এটি বলে ফাহাদ দুষ্ট হাসি দেয়।মেঘা লজ্জায় ফাহাদের বুকে মুখ লোকায়।আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।’
সমাপ্ত...........
আরো পড়ুন: পাজি এক্স,আমার প্রিয় আপনি

0 মন্তব্যসমূহ